Breaking News
Home / দেশও ফবাশর খবর / ‘নাগরি বর্ণে ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ’ কি নতুন নামে আসবে?

‘নাগরি বর্ণে ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ’ কি নতুন নামে আসবে?

নাগরি বর্ণে ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ” ছিলটি ভাষা এবং নাগরি বর্ণমালাকে প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ৭ই মে ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হকের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। ছিলটি ভাষা আন্দোলনকে ত্বরাণ্বিত করতে এই গ্রুপটি অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে কাজ করছে। আশার কথা হচ্ছে দেশে দেশে আজ সিলেটি নাগরি স্বীকৃত। গুগল, অ্যাপল, মাইক্রোসফট সহ সব প্ল্যাটফর্মে আজ নাগরি হরফে লেখা কিংবা পড়া যায়। এমনকি বর্তমান দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়াতেও সিলেটি ভাষার নিজস্ব উইকিপিডিয়া রয়েছে। সুরমা ফারর খবর বহু বছর ধরে নাগরি লিপি ব্যবহার করে সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনে লেখতে পারছে। তাই নামটির পরিবর্তে “ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ” নামটি ব্যবহার করা যুক্তিসংগত এবং যুগোপযোগী হবে বলে মনে হয়, যা সিলেটি ভাষার স্বীকৃতি, প্রচার এবং ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সিলেটি ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছে। “ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ” নামটি সরাসরি ভাষার পরিচয় এবং এর স্বীকৃতির লক্ষ্যকে তুলে ধরবে।
“নাগরি বর্ণে” শব্দটি নামে যুক্ত থাকলে, ফোকাস ভাষার পরিবর্তে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট লিপির (নাগরি) দিকে সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে। এটি ভাষার সামগ্রিক স্বীকৃতির লক্ষ্যকে কিছুটা সংকুচিত করে ফেলতে পারে।

অনেক সময় দেখা যায় সিলেটি ভাষা পূর্বী নাগরী তথা বাংলা লিপিতে লেখা হচ্ছে, এবং অনেক সিলেটি ভাষাভাষী নাগরি লিপির সঙ্গে পরিচিত নন। “নাগরি বর্ণে” শব্দটি নামের মধ্যে থাকলে, এটি এমন ধারণা দিতে পারে যে পরিষদটি শুধু নাগরি লিপি ব্যবহারকারীদের জন্য কাজ করে, যা অন্যান্য সিলেটি ভাষাভাষীদের (যারা বাংলা বা অন্য লিপি ব্যবহার করেন) দূরে সরিয়ে রাখতে পারে।

“ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ” নামটি সব সিলেটি ভাষাভাষীকে একত্রিত করার জন্য সামষ্টিকভাবে যথেষ্ট অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি শব্দ। এটি ভাষার সকল রূপ এবং লিপি ব্যবহারকারীদের প্রতিনিধিত্ব করছে।

নাগরি লিপি ঐতিহাসিকভাবে সিলেটি ভাষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে ধর্মীয় পুঁথি রচনায়। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বর্তমানে এর ব্যবহার সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে, নাগরি লিপিকে নামের অংশ করলে মূল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরিষদের কার্যক্রম একটি সীমিত এবং শুধুমাত্র লিপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়তে পারে।

“সিলেটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ” নামটি লিপি-নিরপেক্ষ, যা ভাষার প্রচার ও শিক্ষার জন্য বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হবে এবং সিলেটি ভাষা আন্দোলনকে আরো ত্বরাণ্বিত করবে।

ভাষার স্বীকৃতির জন্য সরকারি বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণার ক্ষেত্রে একটি সহজ এবং সর্বজনগ্রাহ্য নাম বেশি কার্যকর। “নাগরি বর্ণে” শব্দটি নামে থাকলে, এটি একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক দিকের উপর অতিরিক্ত জোর দিতে পারে, যা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সাধারণ মানুষের কাছে জটিল মনে হতে পারে।

“ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ” নামটি স্পষ্টভাবে ভাষার স্বীকৃতির লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে। যা সরকারি নীতিনির্ধারকদের কাছেও সহজে বোধগম্য।

একটি সংক্ষিপ্ত এবং স্পষ্ট নাম (যেমন “ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ”) সামাজিক মাধ্যমে, প্রচারণায়, এবং জনসাধারণের মধ্যে ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য বেশি কার্যকর। দীর্ঘ নামে অতিরিক্ত শব্দ (যেমন “নাগরি বর্ণে”) মনে রাখা বা উচ্চারণ করা কঠিন হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, ফেসবুক গ্রুপটির নাম “নাগরি বর্ণে ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ” হলেও স্বীকৃতির জন্য একটি সংগঠনের নাম হিসেবে “ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ” বেশি আকর্ষণীয় এবং ব্যাপক আবেদনময়ী।

নাম থেকে “নাগরি বর্ণে” বাদ দেওয়া মানে নাগরি লিপির গুরুত্ব অস্বীকার করা নয়। “ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ” নামের আওতায় নাগরি লিপির সংরক্ষণ, শিক্ষা, এবং প্রচারের কাজ অব্যাহত থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পরিষদ নাগরি লিপি শেখানোর কর্মশালা, পুঁথি প্রকাশ, বা ডিজিটাল টুল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, তবে নামটি ভাষার সামগ্রিক পরিচয়ের উপর কেন্দ্রীভূত থাকবে।

“নাগরি বর্ণে ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ” নামটি নাগরি লিপির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে তুলে ধরলেও, এটি ভাষার স্বীকৃতির বৃহত্তর লক্ষ্যকে সীমিত করতে পারে এবং সব সিলেটি ভাষাভাষীদের একত্রিত হওয়া থেকে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, “ছিলটি ভাষা স্বীকৃতি পরিষদ” নামটি সংক্ষিপ্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, এবং ভাষার স্বতন্ত্রতা ও স্বীকৃতির উপর সরাসরি আলোকপাত করে। এটি সামাজিক, রাজনৈতিক, এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে বেশি কার্যকর এবং সর্বজনগ্রাহ্য হবে। তবে, নাগরি লিপির সংরক্ষণ ও প্রচারের কাজ এই নামের আওতায় অব্যাহত রাখা যেতে পারে।

আপনি যদি এই নামকরণের কোনো নির্দিষ্ট দিক নিয়ে আরও আলোচনা করতে চান বা অন্য কোনো প্রসঙ্গে মতামত দিতে চান, তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে লিখুন!

About sayeed

Check Also

কেএফসি-বাটায় ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মীসহ গ্রেফতার ১৪

ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ৭ই এপ্রিল সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকা হয়। তবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *