একটি বট বৃক্ষ
আবুল হাসনাত সোলায়মান
আমি জ্ঞানি,বিজ্ঞানী,গবেষক বা কোন পন্ডিত নই। মনের মধ্যে কোন কিছু উকি দিলে সেটা নিয়ে কিছু লেখালেখি করি। ভালো কিছুকে সম্মান ও সমর্তন করি,খারাপ কিছু দেখলে প্রতিবাদ না করতে পারলেও সমর্থন অন্তত করিনা। আজ লিখব আল্লামা ফুলতলি সাহেবকে নিয়ে, যার পুরা নাম শাহ সুফি হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ চৌধুরী (র:) (ফুলতলী ছাহেব কিবলা)। তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত পীর,যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। যেখানে পীরেরা মুরিদান দের দানে-খায় পড়ে সেখানে ফুলতলি সাহেব উনার উত্তরাধিকারী সুত্রে পাওয়া সম্পদের একটা অংশ উইল করে দিয়ে ১৯৪০ সালে প্রতিষ্টা করেন “দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলি ট্রাস্ট”। দারুল কিরাত প্রতিষ্টার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশ-বিদেশের কয়েক কোটি মানুষ সম্পুর্ণ বিনামূল্যে সহিহ শুদ্ধ ভাবে পবিত্র কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত করা শিখেছেন। যখন এই উপমহাদেশের মানুষ ভুল ভাল উচ্চারণে পবিত্র কোরআন মাজিদ পাঠ করতেন তখন তরুন বয়সের ফুলতলি সাহেব সঠিক উচ্চারণে তাজবিদের সহিত কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে প্রথমে নিজে ইলমে কিরাত এর সনদ অর্জন করে এই খেদমত কে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মনোনিবেশ করেন। দারুল কিরাত প্রতিষ্টা ও এই প্রতিষ্ঠান দিন দিন এগিয়ে যাওয়া এটা ফুলতলি সাহেব কিবলার একটি বড় কারামত আমি মনে করি। ফুলতলি সাহেব কিবলার আরেকটা কারামত আমি মনে করি উনার ৮ সন্তান। আল্লাহ পাকের দান সাহেব কিবলার ৮ সন্তানের মধ্যে সকলেই বাংলাদেশের প্রথম সারির আলেম,ইলমে কিরাতের সনদ প্রাপ্ত,এবং ইসলামি শিক্ষায় সর্বোচ্চ ডিগ্রী প্রাপ্ত। এমন কি আল্লামা সাহেব কিবলা ফুলতলি (র:) এর ৩য় প্রজন্ম অর্থাৎ উনার নাতিরাও সকলে ইসলামি শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত। আমি জানিনা বাংলাদেশের বা বিশ্বের কোন দেশে এমন নজির আছে কি না যে-নিজে বড় আলেম,পীর তার সকল উত্তরাধিকারী গনও বড় বড় ডিগ্রিপ্রাপ্ত আলেম। এটাকে একটা কারামতের চেয়ে কোন অংশে কম বলে আমি মনে করিনা। ফুলতলি সাহেবের একাধিক সন্তান,নাতিদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ অনেকবার পেয়েছি,বিশেষ করে উনার বড় সন্তান আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলি(র:) এর কাছে কয়েকবার গিয়েছি। উনাদের বিনয়ী আচরন,মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার এগুলো অতুলনীয়। তারা যে এই উপমহাদেশের জামানার শ্রেষ্ঠ পীরের সন্তান-নাতি,জমিদার বংশের উত্তরাধিকারী সে জন্য আমি তাদের কাছে একটুও বিন্দুমাত্র অহংকার দেখতে পাইনি। বাংলাদেশে বহু ভন্ড পীর আছে। আর এই ভন্ড পীরদের কারনে দেশের মানুষদের একটা অংশের মধ্যে পীর,মুর্শিদ,সুফিবাদ সম্পর্কে নেগেটিভ ধারনা আছে। ফুলতলি সাহেব কিবলার উফাতের পর উনি শায়িত আছেন উনারই বাড়ির এরিয়ার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত মসজিদের উত্তর পাশে। আপনারা যারা ফুলতলি সাহেব বাড়িতে কোনদিন জাননি,ফুলতলি সাহেবের মাজার দেখেননি তারা যদি জান তাহলে প্রথমেই দেখে অবাক হয়ে যাবেন। যে জিনিস গুলো দেখে অবাক হবেন তা হল-এখানকার মাজারের ত্রি সীমানার মধ্যে কোন দ্বান বক্স নাই। উনার মাজারে ভক্তদের আগর বাতি জালানো,গোলাপজল ছিটানোর কোন ব্যবস্থা নাই। উনার মাজারে টাকা ছুড়ে মারার বা রেখে দেওয়া সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। উনার মাজারের গেইটের ভিতরে নামাজ পড়ার কোন ব্যবস্থা নাই। ভাবতে পারেন এখানে দান বক্স নাই তাহলে এখানকার মসজিদ,এতিমখানা,মাদ্রাসা,মাজার চলে কিভাবে? মাজারের ভিথরে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা না থাকলে মুসল্লিরা নামাজ পড়েন কোথায়? ১ম উত্তর হল,ফুলতলি সাহেব বাড়িতে দ্বান গ্রহন করা হয় তবে সেটা রিসিট এর মাধ্যমে। আপনি যদি বর্তমান দায়িত্বশীল পীর আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী (র:)এর সাক্ষাতের জন্য যান আর অন্যান্য পীরদের হাতে টাকা দেওয়ার মত উনার হাতেও টাকা দিতে চান তাহলে দিতে পারবেননা। উনি আপনাকে জায়গা দেখিয়ে দিয়ে বলেবেন,ওইখানে যান কোন খাতে টাকা দ্বান করতে চান সেটা বলুন এবং দ্বান করা টাকার রিসিট নিন। ২য় প্রশ্নের উত্তর হল,উনার মাজারের এরিয়ার মধ্যে নামাজ পড়তে না পারলেও মাজারের পাশেই মসজিদ আছে সেখানে সকল মুসল্লিরা নামাজ পড়েন। মাজার এর মধ্যে টাকা ছুড়ে না দেওয়া,গোলাপজল না ছিটানো,আগর বাতি না জালানো,সেজদা না দেওয়া বা নামাজ না পড়ার বিষয়গুলো কঠিন নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। ফুলতলি সাহেব বাড়িতে ছেলেদের একটা এতিমখানা এবং মেয়েদের একটা এতিমখানা সম্পুর্ন বড় সাহেব কিবলার তত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ছোট ছোট এতিম ছেলেদের লাইন বেধে নামাজে আসা,এক সাথে গোসল করতে আসা,বড় সাহেবের তাদের প্রতি যত্ন নেওয়া, এগুলো দেখলে আপনার মন প্রশান্তিতে ভরে যাবে। যারা কখনও ফুলতলি সাহেব বাড়ি যাননি,এবং ফুলতলি সাহেব বাড়ি সম্পর্কে ভুল ধারনা আছে তাদেরকে বলব, ফুলতলি সাহেব বাড়ি জিয়ারতের জন্য যদি না ও জান অন্তত একবার ঘুরতে যান। আপনার ধারনা পালটে যাবে। আপনি ফুলতলি সাহেব এবং উনার বংশধর দের ভক্ত যদি না ও হতে পারেন অন্তত উনাদের সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করবেননা। এমন একজন কামেল পীর এর সম্পর্কে বা তার উত্তরাধিকারী দের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করার আগে আল্লাহর কথা স্মরণ করুন,আল্লাহ কিন্তু সবচেয়ে বড় বিচারক। জাজাকাল্লাহ খাইরান।
শুরমা ফারর খবর ছিলটি জবানে ছিলটর খবর