যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণ করে পুনরায় চালু হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট–ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট। আজ রোববার দুপুরে ম্যানচেস্টার থেকে আগত বিমানের (বিজি-২০৮) ২৬৮ জন যাত্রীসহ সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাদের মধ্যে ২২৭ জন সিলেটে এবং ৪১ জন ঢাকায় নামেন।
আগামী উড্ডয়নের বিপরীত দিকের ফ্লাইট (বিজি-২০৭) গত শনিবার সিলেট থেকে ১৯২ জন যাত্রী নিয়ে ম্যানচেস্টারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। দুপুরে বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
বিমান পরিবহন মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে ও নির্দেশনায় এই রুট পুনরায় চালু করা হয়েছে। বিশেষত যুক্তরাজ্যে থাকা সিলেটি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এটি পূরণ করেছে। সরকার রুটটি নিয়মিত ও টেকসইভাবে পরিচালিত করার যুক্তিবোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, যাত্রীসেবা উন্নয়ন, ভাড়া যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখা এবং রেমিট্যান্সকারীদের জন্য সুবিধা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি ম্যাঞ্চেস্টার রুটে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বিমান লিজ (উড়োজাহাজ ভাড়া) নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে, ফলে ভবিষ্যতে রুটটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট–কক্সবাজার রুটও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওসমানী বিমানবন্দরকে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে গড়া হবে বলে তিনি জানান। সরকার ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে সিলেটে ফ্লাইট পরিচালনায় উৎসাহিত করবে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, উন্নত বিমান যোগাযোগ সিলেটে পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রবাসীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করবে। নিরাপদ ও আধুনিক বিমানসেবা নিশ্চিত করে দেশের অর্থনীতিতে গতি আনা সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কোয়েস লোদী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটে বসবাসরত ও যুক্তরাজ্যে থাকা সিলেটিদের কাছে এই রুটটি শুধু যাতায়াত নয়—পরিবার, ব্যবসা ও আবেগের সেতুবন্ধন। ফ্লাইট চালুর খবরে প্রবাসী সিলেটিদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ রুট সফলভাবে চালাতে সমগ্র নাগরিক ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছে।
শুরমা ফারর খবর ছিলটি জবানে ছিলটর খবর