ভাষার গৌরব ও ধর্মীয় চেতনার মেলবন্ধন: সিলেটি ভাষায় পবিত্র কুরআনের অনন্য তরজমা
নিজস্ব প্রতিবেদন |
সিলেটি ভাষার নিজস্বতা, ঐতিহ্য ও আবেগকে ধারণ করে বাংলাদেশের ইসলামিক জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সূচিত হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ সিলেটি ভাষায় সম্পন্ন হয়েছে পবিত্র কুরআনের অনন্য এক তরজমা (অনুবাদ)। বহুল প্রতীক্ষিত ও মহৎ এই উদ্যোগটির খবর সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়ার পর, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত কোটি সিলেটি ভাষাভাষী মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ধর্মীয় জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও সহজ, সাবলীল এবং হৃদয়গ্রাহী করে তোলার লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস। সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক বাংলা ভাষায় কুরআনের অনুবাদ সহজলভ্য হলেও, সম্পূর্ণ সিলেটি ভাষা ও তার নিজস্ব কথ্যরীতির চিরন্তন মাধুর্য বজায় রেখে করা এই অনুবাদ মানুষের অন্তরে আল্লাহর বাণীকে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একটি ভাষার ব্যাকরণগত শুদ্ধতা ও গভীরতা অক্ষুণ্ণ রেখে পবিত্র কুরআনের মতো সংবেদনশীল মহাগ্রন্থের অনুবাদ ও সম্পাদনা করা অত্যন্ত कठिन ও দূরূহ একটি কাজ। তবে এই ঐতিহাসিক কাজটিকে নিখুঁত ও চমৎকারভাবে সম্পন্ন করার পেছনে কাজ করেছেন দেশের বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষাবিদ ও আলেমদের একটি দক্ষ দল। এই যুগান্তকারী মহা-পরিকল্পনার সাথে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. মমিনুল হক ও বিশিষ্ট গবেষক ক্বারী আলিম উদ্দিন চৌধুরী। পবিত্র এই অনুবাদের সুনিপুণ সম্পাদনায় ছিলেন জনাব মাওলানা মো. আব্দুল লতিফ শামীম (সহকারী অধ্যাপক, ইছামতি দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, সিলেট)।
দীর্ঘ সাধনার পর বর্তমানে এই বৃহৎ ও ঐতিহাসিক প্রকল্পের প্রথম খণ্ডটি (১ থেকে ১০ পারা) সম্পন্ন হয়েছে। এই খণ্ডটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ এই যাত্রার প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলো।
সুধীজন ও অনুগামীদের মতে, নিজস্ব চেনা সুরে ও প্রাণের ভাষায় আল্লাহর কালাম পড়তে ও বুঝতে পারা যেকোনো ভাষার মানুষের জন্যই অত্যন্ত সৌভাগ্যের এবং পরম আনন্দের বিষয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবরটি উন্মোচনের পর থেকেই সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে বৃহত্তর সিলেটের বাসিন্দারা এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাগত জানাচ্ছেন। অনেকেই এটিকে সিলেটি ভাষা, সংস্কৃতি এবং ইসলামিক সাহিত্যের ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে অবিহিত করেছেন।
সিলেটি ভাষার এই অনন্য কুরআন অনুবাদটি শুধু ধর্মীয় জ্ঞান বিস্তারের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সিলেটের নিজস্ব ভাষাগত ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ, সমৃদ্ধকরণ এবং বিশ্ব দরবারে সগৌরবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি অনন্য ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করবে।
শুরমা ফারর খবর ছিলটি জবানে ছিলটর খবর